স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস। পর্ব: ১
![]() |
| স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস। পর্ব: ১ |
বাংলাদেশের অভ্যুদয় বিশ্লেষণে ভূতাত্ত্বিক, নৃতাত্ত্বিক, ভাষাতাত্বিক ও জাতিগত দিক বিবেচনা করলে একটি মহাকাব্য রচনা করা সম্ভব।
প্রায় ২৫০০০ বছর আগে এখানে বসতি গড়ে ওঠে।এক সময় ধারণা ছিল এই ভূখন্ডে বসতি ছিল দ্রাবিড় মঙ্গোলীয় গোষ্ঠীর।ভিন্ন একটি মতে জানা যায়, এর মূল অধিবাসী ছিলো অস্ট্রেলয়েড বা নিষাদ গোষ্ঠী। তবে ইন্দো-আর্য, তুর্কো-ইরানীয়, দ্রাবিড়িয় ও মঙ্গোলীয় গোষ্টির দল উপদল এই ভূখন্ডের গলনগাত্রে যে একীভূত হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
রাজা শশাঙ্ক খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতকে তার গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।তিনিই ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি। দিল্লিতে দাস রাজবংশ প্রতিষ্ঠার আগেই ১২০১ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি গৌড়ে মুসলিম রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।পরবর্তী প্রায় ১৫০ বছর বঙ্গীয় অববাহিকা ও বিহারে দিল্লীর দাস,খলজি ও তুঘলক সম্রাটদের প্রতিনিধিরা শাষনকার্য পরিচালনা করতো। ১৩৩৮ সাল থেকেই দিল্লীর কর্তৃত্ব শিথিল হতে শুরু করে এবং ১৩৪২ সালে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।তিনি বঙ্গীয় অববাহিকার চারটি জনপদেই তার রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন এবং ★শাহে বাঙ্গালা★ উপাধি গ্রহণ করেন।পরে ১৯১২ সালে বিহার উড়িষ্যা স্বতন্ত্র প্রদেশে বিভক্ত হয়। ১৯৪৭ সালে বঙ্গপ্রদেশ ভাগ হয়ে একদিকে হয় বর্তমানের বাংলাদেশ এবং পশ্চিম ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য।
পূর্ববাংলার পাকিস্তানের সঙ্গে বিচ্ছেদের যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন দিয়ে।জনগনের ভোটাধিকার খর্ব করা যাবে না,বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মানতে হবে,হাজার মাইলের দূরত্ব দ্বারা বিচ্ছিন্ন একটি দেশে কেন্দ্রীভূত সরকার চলবে না,স্বায়ত্তশাসন হতে হবে ব্যাপক - সংবিধান রচনায় এসব সমস্যা এসে দাঁড়ায়। ১৯৫২ সালে হয় ব্যাপক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন যার ফলে ২১শে ফেব্রুয়ারি হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।১৯৫৪ সালে সারা দেশ গনবিচ্ছিন্ন ও দেশের স্বার্থ সমার্পনকারী মুসলিম লীগ সরকারকে ভোটের মাধ্যমে পদচ্যুতি করে। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাষন সরাসরি প্রতিষ্ঠিত হলে প্রকাশ্য প্রতিবাদের সুযোগ কমে যায়।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষকদের নির্যাতন ও বিতাড়ন এবং শরীফ কমিশনের সুপারিশে বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারের বংশবদ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়,যার ফলে ১৯৬২সালে ব্যাপক শিক্ষা আন্দোলন শুরু হয়।
১৯৬৬সালে শেখ মুজিব বাংলার মুক্তির সনদ ৬দফা দাবি পেশ করলেন।সর্ববিষয়ে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করে পাকিস্তানে বাঙালীদের নিজেদের ভাগ্য নিজে নির্বাচনের ক্ষমতা দাবী করলো ছল্য দফা কার্যক্রম। ঝগড়া ফ্যাসাদ এবং অভাব অভিযোগ সমাধানের জন্য শেখ মুজিব প্রস্তাব করলেন ""তুমিও বাচো এবং আমাকেও বাচক্তে দাও”। ১৯৭০ সালে দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ ছিলো ৬দফার ম্যান্ডেট।
৩১৩ সদস্যের জাতীয় সংসদে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯জন সদস্যের ১৬৭জন ছিলো আওয়ামীলীগের অনুসারী এবং বাকি ২জনও ছিলেন ৬দফার সমর্থক।তাই মনে হলো এবার বাঙালীকে ক্ষমতা দিতেই হবে,তাদের আর ঠেকিয়ে রাখা যাবে না।কিন্তু মঞের মধ্যেমনি হয়ে দাড়ালেন সিন্ধু ও পাঞ্জাব প্রদেশের উচ্চাভিলাষী ও চক্রান্তকারী নেতা পিপিপির জুলফিকার আলী ভুট্টো।ছলে বলে কৌশলে তিনি ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তাকে জয়ী করে নিলেন।গণতান্ত্রিক রীতিতে ভুট্টো ২প্রদেশের ক্ষমতা পেতে পারেন কিন্তু তাতে তিনি সন্তুষ্টু নন,সারা পাকিস্তানে তাকে ক্ষমতা গ্রহণ করতেই হবে। সংকীর্ণ ব্যক্তি বা গোষ্টির স্বার্থে ষড়যন্ত্র পাকা করা হলো এবং গণহত্যার পরিকল্পনা তৈরী করা হলো।
To Be Continue...

Post a Comment