Header Ads

test

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলার অভ্যুদয়ের ইতিহাস। পর্ব: ২

 

১৩ শতকের শুরুর দিকে বাংলায় মুসলমান শাষণের সূত্রপাত হয়। তবে অনেক আগে থেকেই বাংলার সাথে আরবিয় মুসলমানদের যোগাযোগ ছিলো। 


বখতিয়ার খলজির সামরিক তৎপরতার মধ্যে দিয়ে বাংলায় মুসলিম আধিপত্য বিস্তারের প্রকৃয়া শুরু হয়। বখতিয়ার খলজি ১২০৩ সালে বিহার জয় করে কুতুবুদ্দিন আইবেকের সাথে সৌজন্যতামূলক সাক্ষাৎ করেন।সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি ১২০৪-০৫ সালে আকষ্মিকভাবে বাংলা আক্রমণ করে রাজা লক্ষণসেনের সাময়িক রাজধানী নদীয়া জয় করেন। সেখান থেকে তিনি অধিক সংখ্যক ধন সম্পত্তি, অগণিত পরিচারক -পরিচারিকা এবং বহু হাতি হস্তগত করেন। এরপর তিনি বাংলার ঐতিহ্যবাহী গৌড় দখল করে সেখানে তার রাজধানী স্থাপন করেন।


অধিকৃত এলাকা তিনি কয়েকটি ইউনিটে বিভক্ত করে তার বিশ্বস্ত সেনাপতিদের উপর অর্পিত করতেন।এইসব প্রশাসনিক ইউনিট ⁂ইকতা⁂ নামে পরিচিত ছিলো এবং এই ইকতার শাসনকর্তাকে ⁂মুকতা⁂ বলা হতো। প্রশাসনিক বিন্যাস ছাড়াও বখতিয়ার বাংলার মুসলিম সমাজের ভিত্তি স্থাপন করেন। তিনি নামাজের জন্য মসজিদ, মুসলমান ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদ্রাসা এবং ধর্ম প্রচারের সুবিধার জন্য সুফিদের জন্য খানকাহ প্রতিষ্ঠা করেন।


এরপর বখতিয়ার তিব্বত অভিযানে বের হন।তিব্বতে যাওয়ার পূর্বে তার বিজিত এলাকার প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা ও প্রশাসনের ক্ষেত্রে তার অনুপস্থিতর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করেন। অবশ্য এই তিব্বত অভিযান বখতিয়ারের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে। ব্যর্থ অভিযান শেষে চরম হতাশাগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত হয়ে দেবকোটে ফিরে এসে তিনি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতুবরণ করেন।

No comments