কাজি/কেজি পেয়ারার চাষ
কেউ কেউ বলে কেজি পেয়ারা আবার কেউ কেউ বলে কাজি পেয়ারা আবার কেউ কেউ বলে কাজু পেয়ারা। তবে আসল ব্যপারটা হলো কাজি পেয়ারা। এই ধরণের পেয়ারা গুলো ক্ষেত্রবিশেষে কোনো কোনোটা ১কেজি ওজনেরও হয়।
নতুন জাতের এই পেয়ারাটি আমাদের দেশের মাটিতে খুবই সহনীয়। উফসী জাতের এই পেয়ারাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার স্বল্প সময়ে ফলনশীলতার কারনে এবং সুস্বাদুতার কারণে। কাজি পেয়ারার প্রসার ঘটার পিছনে যে বড় কারণ টি আছে তা হলো এটি খুবই মিষ্টি,খেতে খুবই সুস্বাদু, কচকচে এবং দেখতেও সুন্দর। তাছাড়া আকারেও দেশী পেয়ারার থেকে অনেক বড়। পাকা পেয়ারা দেখতে হলদে সবুজ রঙের। বিচিও খুবই কম।
মাটি তৈরী👎👎
কাজী পেয়ারার জন্য হালকা বেলে মাটি সবথেকে উত্তম। তবে এঁটেল মাটিতেও লাগানো যায় কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যেনো গাছের গোড়ায় পানি জমে না থাকে।
অযৌন পদ্ধতির মাধ্যমে অর্থাৎ গুটি কলম, জোড় কলম, পাশ কলমের মাধ্যেমে চারা তৈরী করা যায়। সেক্ষেত্রে মাতৃগাছের গুনাগুন বজায় থাকে।
তবে গুটি কলম পদ্ধতির মাধ্যমে চারা তৈরী করা সহজ ও লাভজনক। বর্ষাকালের শুরুর দিকে গাছে গুটি কলম করতে হয়। গুটি কলমের জন্য সুস্ত সবল গাছ বেছে নিতে হবে। কলম তৈরীর জন্য মোটা একটি ডাল বেছে নিয়ে আগা হতে নিচের দিকে ৩০ -৪০ সেমি জায়গা ছেড়ে দিয়ে ৩.৯-৫.২ সেমি পরিমাণ জায়গার ছাল উঠিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। তারপর সেই স্থানে পচা গোবরের সাথে কাদামাটি মিস্রিত করে পুরু করে লাগিয়ে কাগজ অথবা পলিথিন দিয়ে বেধে দিতে হবে। যদি সময় মতো গুটি করা হয় তাহলে ১-১.৫ মাসের মধ্য শিকড় বের হবে তারপর নিচ থেকে ডাল কেটে দিতে হয়।
চারা রোপন👎
এক গাছ থেকে অন্য গাছে কতো দুরত্বে রোপন করা হবে তা জমির উপির নির্ভর করবে। ১বছর বয়সের চারা সাধারণত ৫/৭ মিটার দূরে দূরে লাগালে ভালো হয়। মে থেকে জুলাই মাস হকো পেয়ারার চারা লাগানোর উত্তম সময়।
গর্ত তৈরীকরণ ও সার প্রয়োগ👎👎
চারা রোপন করার জন্য ৬৫সেমি প্রস্থ ও ৪০ সেমি গভীর গর্ত করে নিম্নলিখিত সারগুলো প্রয়োগ করতে হবে।
★গোবর পচা অন্তত ১০-১২কেজি।
★সরিষার খৈল ১.৫-২.৫ কেজি।
★টিএসপি সার ১কেজি।
এই সারগুলো ভালোভাবে মাটিতে মিশ্রিত করে অন্তত ৮-১০ দিন রেখে দিতে হবে।
গাছের যেনো বাতাসের কারণে ক্ষতি না হয় তার জন্য খুটির ব্যবস্থা করতে হবে।
গাছের গোড়া থেকে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং খরার মৌসুমে গোড়ার মাটি ভেঙে আলগা করে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
গাছের দৈহিক গঠন যদি মজবুত না হয় তাহলে অল্প বাতাসেই ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যাই।তার জন্য একটা শক্ত খুটির সাথে গাছটাকে বেধে দিতে হবে।
কাজী পেয়ারার রোগবালাই তেমন একটা হয় না বললেই চলে। পোকার মধ্য ফল খননকারী ও কান্ড খননকারী পোকাই প্রধান। দমন করার জন্য ১লি. পানিতে ১সিসি ম্যালাথিয়ন মিশিয়ে গাছে ছিটিয়ে দিতে হবে। তাছাড়া গাছে টিন পিটিয়ে পাখি বা বাদুরের উপদ্রব কমানো যায়।
ফল আহরণ
কাজী পেয়ারা বছরে ২-৩বার ফল দেয়। ১ম,২য় ও ৩য় পর্যায়ে যথাক্রমে মার্চ, আগষ্ট ও অক্টোবর মাসে ফুল আসে। এবং ফল থাকে জুলাই, ডিসেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। ১ম ও ৩য় পর্যায়ে ফলের ধরন হয় বেশি এবং এই পর্যায়ে আস্তে আস্তে ফলের আকার ছোট হয়ে যায় বিধায় ফল ভেঙে পাতলা করে দিতে হয়।
কলমের চারা গুলোতে সাধারণত ১-২বছরের মধ্য ফল আসে। পেয়ারা পাকার সময় সবুজ রং বদলে হলুদ হয়ে যাবে তখন ফল আহরণ করতে হবে। বেশি পেকে গেলে নষ্ট হয়ে যাবে যার ফলে কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
![]() |
| কাজি/কেজি পেয়ারার চাষ |

Post a Comment